Bank Strike: নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশের সর্বত্র। বছর শুরুতেই সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ব্যাংকিং সংকটের মুখে পড়তে পারেন। সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের দাবিতে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস আগামী ২৭ শে জানুয়ারি দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ সহ বহু রাজ্যে ব্যাঙ্ক পরিষেবা কয়েক দিন ধরে বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে উৎসব ও ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সরস্বতী পুজো থেকে টানা কয়েক দিন ব্যাঙ্ক না খোলায় বিপাকে পড়বেন গ্রাহকরা
কেন এই ধর্মঘট?
ব্যাঙ্ক কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি – সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ। শনি-রবি দুই দিন সম্পূর্ণ ছুটি। বর্তমানে কর্মীরা মাসে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ছুটি পান।
কর্মীদের যুক্তি
সরকারি স্বীকৃতি এলে শামিল হবে বাকি দুই শনিবারও। তাঁরা জানান এতে করে ব্যাংকের মোট পরিষেবার সময় কমবে না। গ্রাহকদের সুবিধা বজায় রাখতে তারা প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪০ মিনিট কাজ করতেও রাজি আছে।
অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশনের মতে, দুই হাজার চব্বিশের মার্চ মাসে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক অ্যাসোসিয়েশনের সাথে মজুরি সংশোধন চুক্তির সময় এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তখন বাকি শনিবার ছুটির বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি মিলেছিল। কিন্তু সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন না আসায় ইউনিয়নগুলির ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। এবং তার ফলেই এই ধর্মঘটের পথে হাঁটছে তারা।
ইউনিয়ন সূত্রের খবর, মুম্বাইয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে কোনও সমাধান না হওয়ায় সাতাশে জানুয়ারি ধর্মঘট নিশ্চিত।
পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের জিবনে কি প্রভাব পড়বে?
২৩ শে জানুয়ারি নেতাজি জন্মদিন এবং সরস্বতী পুজো উপলক্ষে ব্যাঙ্ক বন্ধ।
২৪ শে জানুয়ারি মাসের চতুর্থ শনিবার ব্যাঙ্ক ছুটি।
২৫ শে জানুয়ারি রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস হওয়ায় জাতীয় ছুটি।
২৭ শে জানুয়ারি ইউনিয়নের ডাকা ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। অর্থাৎ টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক খুলবে না। এর পর ২৮ শে জানুয়ারি ব্যাঙ্ক খোলার দিন গ্রাহকদের ভিড় বাড়বে বলে অনুমান।
এটিএম (ATM) এবং অনলাইন পরিষেবার উপর কি প্রভাব পড়বে?
টানা ছুটি ও ধর্মঘট মিলিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।
ইউনিয়নের বক্তব্য
আউটসোর্সিং করে এটিএম সচল রাখার চেষ্টা হলেও নগদ টাকার জোগানে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে মাসের শেষে বেতন এবং পেনশনের সময় এই পরিস্থিতি মানুষকে আরও দুশ্চিন্তায় ফেলছে।
তবে কিছুটা স্বস্তি এখানেই ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলেও অনলাইন লেনদেন, ইউপিআই (UPI) এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু থাকবে।
ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কিং অ্যাসোসিয়েশন এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ব্যাঙ্ক কর্মীরা
তাঁদের বক্তব্য ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে.
সাধারণ গ্রাহকদের উদ্দেশে পরামর্শ, ২৩ জানুয়ারির আগে জরুরি নগদ তোলা এবং প্রয়োজনীয় লেনদেন সেরে রাখুন। এখন দেখার বিষয় সরকার শেষ মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করে কি না এবং এই অচলাবস্থা কমানো যায় কি না।
১, ব্যাঙ্ক ধর্মঘট কবে হবে?
ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস ২৭ শে জানুয়ারি দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
২, ব্যাঙ্ক কর্মীরা কেন ধর্মঘট ডাকছেন?
তাদের দাবি সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ এবং শনিবার রবিবার ছুটি দিতে হবে। সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় ইউনিয়নের অসন্তোষ চরমে পৌঁছে।
৩, গ্রাহকদের কী ধরণের সমস্যা হতে পারে?
পশ্চিমবঙ্গ সহ অনেক জায়গায় টানা কয়েক দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকার ফলে জরুরি আর্থিক কাজ আটকে যেতে পারে। এবং ২৮ শে জানুয়ারি ব্যাঙ্ক খোলার পরে অতিরিক্ত ভিড় হতে পারে।
৪, এটিএম এবং অনলাইন পরিষেবা কি চলবে?
অনলাইন ট্রানজ্যাকশন ইউপিআই (UPI) এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু থাকবে তবে এটিএমে (ATM) নগদ টান পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৫, গ্রাহকরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
তেইশে জানুয়ারির আগেই জরুরি নগদ তোলা এবং প্রয়োজনীয় লেনদেন সেরে ফেলা ভালো।





