Top 3 Indian Towns Where Temperatures Fall Below Zero: ভারত নানা ধরনের ভূপ্রকৃতি ও আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। তার মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এমন কিছু শহর ও জনপদ যেগুলো শূন্যের নীচে তাপমাত্রায় দিন কাটায়। বছরের বেশিরভাগ সময় বরফে ঢাকা থাকে, অনেক সময় স্বাভাবিক জীবন থেমে যায় বা আংশিক ভাবে চলে। লম্বা শীত আর প্রচণ্ড ঠান্ডা সত্ত্বেও এই জায়গাগুলি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। কারণ এখানে দেখা মেলে বরফে মোড়া মনোরম প্রকৃতি আর শীতকালীন রোমাঞ্চের সুযোগ। দেখে নেওয়া যাক ভারতের এমন তিনটি জনপদের কথা যেখানে তীব্র ঠান্ডাই মানুষের জীবনের নিয়ম তৈরি করে দেয়।
১, ড্রাস লাদাখ (Dras, Ladakh)

ড্রাসকে বলা হয় লাদাখের প্রবেশদ্বার। এটি ভারতের সবচেয়ে ঠান্ডা বসতিপূর্ণ জায়গাগুলির মধ্যে একটি। শীতকালে এখানে তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস বিশ বা মাইনাস পঁচিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। কখনও আরও নীচেও নেমে যেতে পারে। প্রায় তিন হাজার তিনশো মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই শহর বরফে ঢাকা পাহাড়ে ঘেরা। ভোরে সূর্যের আলো পড়লে পাহাড়গুলোর উপরে হালকা গোলাপি আভা দেখা যায়।
শীতে কেন যাবেন – Why visit in winter?
এ সময় ড্রাস হয়ে ওঠে শান্ত আর রূপকথার মতো সুন্দর। জমে যাওয়া ঝরনা, নিস্তব্ধ উপত্যকা আর বরফে ঢাকা গাছপালা শহরকে অন্য মাত্রা দেয়।
কারগিল যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ সারা বছর খোলা থাকে। শীতকালেও এখানে গিয়ে শহীদদের স্মরণে সময় কাটানো যায়।
এখানকার শিনা ও পুরিগ সম্প্রদায়ের মানুষ কঠিন শীতে নিজেদের ঐতিহ্য, পোশাক ও খাবারের মাধ্যমে জীবনকে সাজিয়ে নেন।
পর্যটকদের জন্য টিপস (Tourist tips)
জোজিলা পাসে বরফ পড়লে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। তাই যাওয়ার আগে রাস্তার খবর জেনে নেওয়া জরুরি।
শীতেও কিছু হোমস্টে ও ছোট অতিথি নিবাস খোলা থাকে। কাঠের তাপ দেওয়া হিটার ও গরম স্থানীয় খাবারের ব্যবস্থা থাকে।
ভালো মানের থার্মাল পোশাক, ডাউন জ্যাকেট, উষ্ণ জুতো এবং ওষুধপত্র সঙ্গে রাখা উচিত। উচ্চতা বেশি হওয়ায় একটু সময় নিয়ে মানিয়ে নিতে হবে।
২, স্পিতি ভ্যালি, হিমাচল প্রদেশ (Spiti Valley, Himachal Pradesh)

স্পিতির কাজা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রচণ্ড শীত পড়ে। তাপমাত্রা মাইনাস বিশ ডিগ্রির নীচে নেমে যাওয়া সাধারণ ঘটনা। এ সময় পুরো স্পিতি প্রায় বরফের মরুভূমিতে পরিণত হয় এবং অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
শীতে কেন যাবেন – Why visit in winter?
বরফে ঢাকা উপত্যকা আর চাঁদের পৃষ্ঠের মতো দৃশ্য আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। জমে যাওয়া জলপ্রপাত আর সাদা বরফের টিলা স্পিতিকে আলাদা সৌন্দর্য দেয়।
এই সময় স্নো লেপার্ড দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে কাজা থেকে স্নো লেপার্ড দেখার অভিযান পরিচালিত হয় যা বিশ্বজুড়ে বন্যপ্রাণ প্রেমীদের টানে।
কী মঠ, ধানকার মঠ ও তাবো মঠে শীতে থেকেও শান্তিতে সময় কাটানো যায়।
পর্যটকদের জন্য টিপস (Tourist tips)
শীতে মানালি রুট বন্ধ থাকে। শুধুমাত্র শিমলা কিণ্নর সড়ক খোলা থাকতে পারে তবে তাও বরফের ওপর নির্ভর করে। তাই ভ্রমণ ধীর হয়।
হোমস্টে ও মঠের গেস্ট রুম গরম রাখা হয় এবং সাধারণ অথচ আন্তরিক আতিথেয়তা পাওয়া যায়।
রাতে ঠান্ডা হঠাৎ নেমে আসে। তাই পানি পান করতে হবে, মদ্যপান এড়াতে হবে এবং ধীরে চলতে হবে যাতে উচ্চতার সমস্যা না হয়।
৩, তাওয়াং, অরুণাচল প্রদেশ (Tawang, Arunachal Pradesh)

তাওয়াং প্রায় ৩,০০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। শীতে এখানে প্রবল বরফ পড়ে এবং তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস দশ ডিগ্রি বা তারও নীচে। বৌদ্ধ ঐতিহ্য, স্বচ্ছ হ্রদ আর দুর্গম পাহাড় এই জায়গাটিকে ভারতের অন্যতম মনোরম শীতকালীন গন্তব্য করে তুলেছে।
শীতে কেন যাবেন – Why visit in winter?
তাওয়াং মঠ শীতের পাহাড়ের পটভূমিকায় আরও মনোমুগ্ধকর লাগে। গেরুয়া পোশাক পরা সন্ন্যাসীরা শীতকালীন আচার পালন করেন।
শঙ্গা সার বা মাধুরী লেক এবং পাংকাং তেং সো সহ বেশ কিছু উঁচু পাহাড়ি লেক শীতে জমে যায় যা চমৎকার দৃশ্য তৈরি করে।
উপযুক্ত সময়ে গেলে মোনপা সম্প্রদায়ের শীতকালীন উৎসব, মুখোশ নৃত্য এবং নানা ঐতিহ্য দেখা যায়।
পর্যটকদের জন্য টিপস (Tourist tips)
এখানে যেতে বেশিরভাগ পর্যটকের ইনার লাইন পারমিট লাগে। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিয়ম থাকতে পা।
বোমদিলা থেকে তাওয়াং এর পথে খাড়া বাঁক আর বরফে ঢাকা রাস্তা থাকে। তাই স্থানীয় অভিজ্ঞ চালক নেওয়া ভালো।
এখানে হোটেল, মঠের গেস্টহাউস ও হোমস্টে আছে। ঘর গরম রাখা হয় এবং স্থানীয় মোনপা খাবার পরিবেশন করা হয়।
FAQs:
১. ভারতে এমন কোন কোন জায়গায় শীতকালে শূন্যের নীচে তাপমাত্রা নেমে যায়?
লাদাখের ড্রাস, হিমাচলের স্পিতি উপত্যকা এবং অরুণাচলের তাওয়াং এমন জায়গা যেখানে শীতে তাপমাত্রা নিয়মিত শূন্যের নীচে নেমে যায়।
২. শীতে ড্রাস যাওয়া কি নিরাপদ?
যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে গেলে নিরাপদ.। তবে জোজিলা পাসে বরফ পড়লে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে তাই যাওয়ার আগে রাস্তার খবর জানা জরুরি এবং শক্ত শীতবস্ত্র সঙ্গে রাখা দরকার।
৩. স্পিতি উপত্যকায় শীতকালে কোন বিশেষ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়?
বরফে ঢাকা উপত্যকা আর জমে যাওয়া জলপ্রপাত ছাড়াও এই সময় স্নো লেপার্ড দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে এবং বিভিন্ন মঠে থেকে শান্তিতে সময় কাটানো যায়।
৪. তাওয়াং এ শীতে কী কী দেখা যায়?
তাওয়াং মঠের শীতকালীন রূপ, জমে যাওয়া পাহাড়ি লেক এবং মোনপা সম্প্রদায়ের উৎসব ও ঐতিহ্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
৫. এই সব জায়গায় শীতে ভ্রমণের জন্য কী কী জিনিস নিয়ে যাওয়া জরুরি?
উষ্ণ থার্মাল পোশাক, ডাউন জ্যাকেট, গরম জুতো, ওষুধপত্র, পানি পান করার বোতল এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসা সামগ্রী রাখা দরকার। উচ্চতা বেশি হওয়ায় ধীরে চলা এবং শরীর মানিয়ে নেওয়া খুবই জরুরি।






